.অনন্তহীন অপেক্ষা (an endless wait)

 
 

by Vani, a physicist and a first time writer.

আজ সকাল থেকেই বর্ণার অদ্ভুত মনে হচ্ছে. কাল রাতের অদ্ভুত স্বপ্নটা মাথা থাকে যেন সরছেই না. মাথাটাও ধরেছে. এক কাপ গরম চা নিয়ে ও দৈনিক পত্রিকাটা নিয়ে খুলে বসলো.



নাহ্হ্হ.. পড়ায় ও মন বসছে না. স্বপ্নের কথাটা মাথাচাড়া দিয়া উঠছে বার বার. তবে কি তার কাছ থাকে অবহেলা আর উপেক্ষা পেয়েই নীলাঞ্জন তাকে ছেড়ে চলে গেছিলো? আজ সরোজ এর কাছ থেকে উপাখ্যান কি তাকে অতীত এর পাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে? তার অতীতের পাপবোধ আর বর্তমান এর উপেক্ষা তাকে তিলেতিলে দুর্বল করে তুলছে..

না না না ... সে আর ভাবতে চায় না... তবুও রাতের সুখস্বপ্ন তাকে টেনে নিয়ে চলেছে তার নীলাঞ্জন এর কাছে. সেই ত্রিশ বছর আগের বৃষ্টিভ্যেজা সন্ধ্যায়, সেই বৃষ্টির ঠান্ডায় নীলাঞ্জন এর উষনো দুটি ঠোঁট প্রথমবার ছুঁয়েছিল তার মলিনতাকে... না ঠিক প্রথমবার তো নয়,,, তার নীল তো এর আগেও তার মন, চোখ, হাত , এই কোমল শরীরটাকে ছুঁয়েছে ওই মোহময় দুটি চোখ দিয়ে. বর্ণা তো নিজেই সমর্পিত করেছে নিজেকে নীলের কাছে.. নীল এর সারল্যে ভরা হাসি তো খুলে দিয়েছে বর্ণার মনের সকল বাদ্ধবাধকতা. এ যেন ইহলোকে থেকে পরলৌকিক বিলাসিতার অনুভূতি.. সেখানে কোনো শরীর নাই, কোনো বাধা নাই, নেই দিন রাত্রির হিসাব, নেই কাছে না পাওনার যন্ত্রনা,,,, শুধু মনের গগনে অন্য মনের অগাধ আসা যাওয়া. কত সারল্যে ভরা ছিল কিশোর কালের সেই ভালোবাসা. 

 

 

হটাৎ গরম হাতের স্পশে বর্ণা অতীতের রঙিন দিনগুলোকে পিছনে ফেলে চমকে বর্তমানে ফিরে এলো. সরোজ হাসতে  হাসতে বললো " কাগজ এ কি এমন খবর বেরোলো যে আমার বৌ এর চোখ ই সরছে না?"
 

 

কথাটা এরিয়া গিয়া বর্ণা বললো, "আজ তো রোববার, এত তাড়াতাড়ি উঠলে যে?"

"তাড়াতাড়ি, এক টা বেজে গাছে ম্যাডাম, তুমি ঠিক আছো তো? তোমায় কেমন অন্যমনস্ক লাগছে?.." সরোজ উদ্বিগ্ন হয়ে বললো.

"না না ,,, আমি একদম ঠিক আছি " উঠতে উঠতে বললো বর্ণা. "আর আমি তো জানিই তুমি কতটা ব্যাস্ত মানুষ যে বিবাহবাষিকী এর মতো এমন তুচ্ছ বিষয় তোমার মনে না থাকাটাই স্বাভাবিক.

সরোজ তার হাতদুটো নিজের হাতের মধ্যে ধরে বললো,,, "সত্যিই একদম ভুলে গেছিলাম, কাল ফিরতেও এত রাতে হলো যে.. বোলো এই বিবাহবাষিকী তে তোমার কি লাগবে? ক্রেডিট কার্ডটা তো তোমাকে দিয়েই রেখেছি, কিছু কিনে নিতে পারতে তো.."

মুখে নকল হাসি টেনে বর্ণা বললো " আমার যা চাই টা এই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনা যায় না যে .."

সরোজ বর্ণাকে তার বাহুবন্ধনে নিয়ে বললো " বুঝেছি ম্যাডাম এর রাগ হয়েছে,, কাল সাপলাইয়ের সাথে মিটিং ছিল . এত ঝুড়ঝামেলায় একদম ভুলে গেছিলাম. আর যা করছি তো ম্যাডাম এর সুখ আল্লাদ এর জন্যই করছি"
 

 

 

গতকাল বর্ণা ও সরোজের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী ছিল. গত দুই বছরের সব স্পেশাল দিনগুলি এভাবেই একা কাটাতে হয়েছে বর্ণাকে. সরোজের সাথে তার প্রথম দেখা কলেজের অ্যানুয়াল প্রোগ্রামে. নীল শাড়ীতে কি সুন্দরই লাগছিলো বর্ণাকে. প্রথম দেখাতেই প্রেম পড়েছিল সরোজ. তারপর সাতবছর কলেজ ক্যান্টিন এ আড্ডা, সরোজ এর নতুন চাকরিতে জয়েন করা, চাকরি ছেড়ে নতুন ব্যবসা দাঁড় করানো,,, এসবের মধ্যে দিয়ে কেটে যাওয়া সাতটা বছরের পর তাদের প্রেমটা বিয়ের পরিপূর্ণতা পেলো. বিয়ের একবছর ভালোই কেটেছে তাদের. তারপরই বর্ণার জীবনে এসেছে একটা দীর্ঘমেয়াদি অপেক্ষার. ব্যবসা নিয়ে এতটাই ব্যাস্ত সরোজ যে সে ভুলেই যায় বর্ণা তার অপেক্ষায় দিন এর পর দিন গুনছে. সোয়ার্জ দিন এর পর দিন আরো বাস্ততর হয়ে উঠেছে... আর বর্ণা হারিয়েছে নির্সগতার অতল অন্ধকারে. সবাই বলে সরোজের মতো মানুষ পেয়ে সুখী না হওয়ার তো কোনো কারণ থাকে না, মেয়েমানুষ, মদ বা অন্যকিছুর বদনেশা নেই ওর, নেশা শুধু টাকার আর সাফল্যের. সকল স্ত্রীয়ের মতো বর্ণাও শুধু চায় ওর সবটা জুড়ে বিরাজ করতে. কিন্তু হায়, সেখানে বর্ণার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোনো দ্বিতীয়ার সাথে নয়, অপার্থিব ঠান্ডা জ্বরবস্তুর সাথে. 

 

 

 

চিন্তার জগৎ থাকে বাড়িয়ে এসে বর্ণা বললো " কি খাবে বোলো, সোনামা আজ আসেননি, আমি বানিয়ে আনছি"
 

সরোজ আমার মনের অবস্থা বুঝলো, নাকি নিজের অন্যায়বোধ ঢাকতে বললো, "ওইইইই বর্ণা, চাল না আজ একটু কলেজের দিনগুলির মতো মুভি দেখে, রেস্টুরেন্ট এ খেয়ে, রাতেএ সন্দ্বীপের বাড়িতে আড্ডা দিয়ে আসি.

 


এই অভাবনীয় প্রস্তাবে আজ আর বর্ণার মনে কোনো খুশির হিমেল হাওয়া বইলো না. চাওয়া না পাওয়ার খেলায় আজ সে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পিত করেছে কাল. এতদিনের দ্বিধাকে জয় করে সে গতকাল গেছিলো তার প্রিয় বান্ধবী পায়েলের কাছে, নিজেকে এই ঘ্যানঘ্যানে বন্ধন থেকে মুক্ত করতে. পায়েল তার ছেলেবার বান্ধবী আর এই এলাকার মস্তবড় উকিল.

 

 

কাল অনেক রাতে ফেরায় ডিভির্সে নোটিশটা আর সরোজকে দাওয়া হয় নি. বালিশের নিচে শেষ অশ্রুজলে আজ সেটা শিক্ত.

 

'' কিগো, তৈরী হয়ে নাও. আজ একবার নীল শাড়ীটা পারবে প্লিজ? তোমাকে হেব্বি সুন্দর লাগে নীলরঙ্গে...." ঠাট্টার শুরে বললো সরোজ.
 

 

হালকা হেসে, জীবনের উদাসীনতাকে পর্দার আড়ালে রেখে নীল শাড়ীতে মুড়ে নিলো আজ ও নিজেকে. এর নামই হয়তো সংসার. হাতের ব্যাগটা ভারী হয়ে উঠলো এতদিনের না পাওয়া, না বোঝা, হাজারো অভিমান আর কান্নার থেকে মুক্তিপত্র ওই ডিভোর্স নোটিশএর ভারে. আজ তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা, সে কি পারবে এই গতানুগতিক সম্পর্কের বোঝা ছেড়ে বাড়িয়ে আসতে, নাকি আরো তালিয়া যাবে সীমান্তহীন আশারেখার অতল অন্ধকারে.

Barna had a strange feeling since this morning. She could not shake the strange dream from last night from her head. She also felt a headache approaching. She sat herself down with a cup of hot tea and the daily newspaper.

 

Oh no.. she can't focus on the newspaper. yesterday's dream coming into her mind again and again.  no no no.. she doesn't want to recall those golden memories of her teenage love story. Did she neglect the feelings of Nilanjon at her early age and that forced him to leave her? today Saroj's negligence taking her in her past days. her feeling of sin making her present week..

 

No no no... she doesn't want to think about those days. But still, yesterday's sweet dream taking her towards her Nilanjon. Towards that rainy evening, On that rainy evening thirty years ago, in the cold of that rain, Nilanjon's two warm lips touched her for the first time. Not exactly the first time,,, her Neel has touched her mind, eyes, hands, her soft body even before that with those two enchanting eyes. Barna has surrendered herself to her Neel. Neel's simple smile has opened all the compulsions of Barna's mind. It is like a feeling pleasure of heaven staying on earth. There is no limitation of the body, there is no obstacle, there is no calculation of day and night, there is no pain of staying apart, just limitless movement in each other's mind. How simple was that teenage love!

 

Suddenly, with the touch of a warm hand, Barna came back to the present, leaving behind the colorful days of the past. Saroj laughed and said, "Is there any news in the paper that my wife's eyes are not moving?"

 

Avoiding this question Barna said, "Today is Sunday, you wake up so early!!"

 

"Early!! madam, it's already one o'clock, are you all right? you look like little disturbed." Saroj said anxiously.

 

"No, I'm fine," said Barna as she got up "And I know you're so busy that it's normal for you not to remember trivial things like our marriage date."

 

Saroj took her hands in his and said, "I really forgot, I was really late yesterday night. Tell me, what do you need for this anniversary? I left the credit card with you, you could buy something for you for this special day."

 

With a fake smile on her face, Barna said, "What I want can't be bought with this credit card."

 

Saroj took Barna in his arms and said "I understand Madam is very angry, I had a very important meeting with the supplier yesterday. I completely forgot about our anniversary in this busyplans. anyway, I am doing all these works to buys luxury and happiness for my queen".

 

Yesterday was the third wedding anniversary of Barna and Saroj. All special days of the last two years Barna have been spent alone. Her first meeting with Saroj was at the college's annual program. What a beautiful look in a blue sari !! Saroj fell in love at first sight. Then hang out in the college canteen for seven years, Saroj joined a new job, quit his job, and start a new business... after seven years of togetherness, their love turned into marriage. They had a great romance in the first year. After that came a long endless waiting in Varna's life. Saroj is so busy with business that he forgets that Barna is waiting for him day after day. Saroj has become bust to busier day by day and Barna lost in the abyss of loneliness. Everyone says that there is no reason not to be happy to get a person like Saroj, he has no bad intentions about women, alcohol, drug, or anything else, he is only obsessed with money and success. Like all wives, she just wants to be the center of all attraction of Saroj. But, she got the competition not with another attractive woman, instead of unliving, cold money.

 

Barna came out from her thought and told, "Tell me what you want to eat, Sonama has not come today, I will make it."

 

Saroj understood my state of mind or to cover his own wrongdoing, he said, "Oeeee Barna, let's go for a movie like in our college days, eat at restaurants, hang out at Sandwip's house at night."

 

In this unimaginable proposal, there was no more happy mood in Barna's mind today. She has completely surrendered herself in the game of waiting. Overcoming all these hesitations, she went to her beloved friend Payal yesterday to free herself from this unseen bondage. Payal is her childhood friend and one of the best lawyers in the area. 

 

Yesterday she didn't manage to give the divorce notice to Saroj as he returned late last night. Today it is still waiting wet under the pillow with the last tears towards this not working relationship.

 

"Kigo, get ready. Please wear a blue saree once today, please? You look so beautiful in blue .... "Saroj said with a big smile.

 

She Laughed lightly, she wrapped herself in a blue sari hiding all disappointment, sadness, rapped inside this blue cover. Maybe this is called family. The handbag became heavier than ever before, with that wet divorce notice, which is the relief from all those misunderstandings, thousands of arrogance, and tears from this relationship. Today is the most difficult test of her life, will she be able to lift the burden of this conventional relationship, or will she be able to go further deep in the abyss of boundless hope and waiting.

#somethingreal